ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ করা ‘সহজ অংশ’ হলেও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ শুরু হয় তার পরেই।
হজেসের মতে, “এরপর কী হবে—এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর আমার মনে হয় না যে মার্কিন সরকার ভেবেছে।” তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের শুরুর সময়কার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পান। তার ভাষায়, ‘সেই অহংকারই ভয়াবহ ভুলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, আর মনে হচ্ছে সেটিই আবার ঘটছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মাটিতে বুট পরা’ নিয়ে ভয় না পাওয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হজেস বলেন, স্পষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য এবং শক্ত রাজনৈতিক ও বেসামরিক পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি—এই প্রস্তুতি না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডিং জেনারেল হজেস আরো সতর্ক করে বলেন, এই সংকটে কিউবাও জড়িত। তার মতে, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হলে কিউবার শাসনব্যবস্থা বড় চাপের মুখে পড়বে। কেননা ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৩০ হাজার কিউবান কর্মী রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হজেসের বিশ্লেষণে, ভেনেজুয়েলা সংকট এখানেই শেষ নয়। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের আলোকে বর্তমান প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার দিকেই এগোচ্ছে—যার প্রভাব অঞ্চলজুড়ে পড়তে পারে।