যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) তার মার-এ-লাগো রিসোর্টের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা অভিযান তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিয়েছে।
সেটি কীভাবে ঘটেছে তা বোঝাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় পদক্ষেপ দেখিয়েছে পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় হামলা ‘মনরো মতবাদ’-এর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘মনরো মতাবাদ’কে নতুন করে ‘ডনরো মতবাদ’ নামে অভিহিত করেছেন। এই ‘মনরো’ মতবাদের জনক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পররাষ্ট্র নীতি ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট মনরো ১৮২৩ সালে এটি ঘোষণা করেছিলেন।
ওই সময় এই নীতি ছিল পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিরোধী। এর মোদ্দা কথা ছিল, দুই আমেরিকা মহাদেশকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির বিস্তার থেকে মুক্ত রাখা আর পশ্চিম গোলার্ধে তাদের কোনো নতুন উপনিবেশ স্থাপন বা হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসাবে গণ্য করা। দুই আমেরিকা মহাদেশ এবং ইউরোপের প্রভাব বলয় পৃথক থাকবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না।
১৯০৪ সালে ইউরোপীয় পাওনাদাররা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে হুমকি দিলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট মনরো মতবাদকে আরও সম্প্রসারিত করেন। লাতিন আমেরিকার কোনো দেশ যদি তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অনুমোদন করেন তিনি।
এই নীতি ‘পশ্চিম গোলার্ধে’ যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর উপর মার্কিন প্রভাবের ভিত্তি স্থাপন করে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী দুই দশক ধরে হাইতি, নিকারাগুয়া ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপের বৈধতা দিতে এটি ব্যবহার করা হয়।
‘ডনরো’ নামটি ট্রাম্পের ডোনাল্ড এবং মনরো মতবাদের একটি সংমিশ্রণ। এটি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির নতুন নাম, যা মার্কিন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া। আগের ধারাবাহিকতায় তৈরি করা এই মতবাদ পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করার একটি কঠোর কৌশল। এটি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়।
অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক উপস্থিতি ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সেখানে অন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রভাব খর্ব করাই এই মতবাদের উদ্দেশ্য। এটি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির একটি রূপরেখা।