মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকালে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির একাধিক স্থানে হামলা চালায়। হামলার কিছুক্ষণ পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নিজ দেশে মার্কিন হামলার পরও মাদুরোর বিরোধী শিবির এক ধরনের রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা হলেও দেশটির মাদুরো বিরোধী পক্ষ জানিয়েছে তারা এই ইস্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে না। বিরোধী দলের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই পর্যায়ে আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেব না।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক ও ডানপন্থী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বর্তমানে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ। মাচাদো মাসব্যাপী মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথাকথিত মাদকবাহী নৌকাগুলোর ওপর হামলাকে সমর্থন জানিয়েছেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করার পর ট্রাম্পের সেই পদক্ষেপকে তিনি ‘চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক’ বলে অভিহিত করেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার মাচাদোকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো এবং বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কুশীলব। বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তা এখনো অস্পষ্ট।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো বারবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তারা ভেনেজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের কলকাঠি নাড়ছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার মূল লক্ষ্য হলো দেশটির বিশাল তেলের ভান্ডার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বৃহৎ আকারের হামলা’ চালিয়েছে এবং এর মাধ্যমেই মাদুরোকে বন্দী করা সম্ভব হয়েছে।
আজ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার প্রকৃতি বা ঠিক কোন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস, মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরায় হামলা করেছে। এটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মাদুরো সরকার। আজ স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাসে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার সঙ্গে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরেই টালমাটাল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদুরো সরকারের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। যদি ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে ওয়াশিংটন।