ঐতিহাসিক কুরআনে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জোহরান মামদানি। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই নগরীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মেয়র কুরআনে হাত রেখে শপথ নিলেন—যা শহরটির বহুত্ববাদী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) ব্যক্তিগত এক অনুষ্ঠানে শপথ নেন। এ সময় তিনি ব্যবহার করেন তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন দুটি কুরআন এবং নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক কুরআন। টাইমস স্কয়ারের নিচে পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক জনসমক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি আবারও তাঁর দাদা-দাদির ব্যবহৃত কুরআনে শপথ নেবেন।
নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে নেওয়া ঐতিহাসিক কুরআনটি একসময় খ্যাতিমান কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসবিদ ও হারলেম রেনেসাঁর অন্যতম ব্যক্তিত্ব আর্তুরো শোমবার্গের মালিকানায় ছিল। তাঁর সংগ্রহ থেকেই পরবর্তীতে গড়ে ওঠে শোমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই কুরআন নিউইয়র্কের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা, নাগরিক পরিচয় এবং বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রতীক।
নিউইয়র্কে মেয়রদের জন্য ধর্মীয় গ্রন্থে শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে অতীতে অনেক মেয়র পারিবারিক বাইবেলে শপথ নিয়েছেন। মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোনা কয়েকজন রাজনীতিকের একজন, যিনি কুরআনে শপথ গ্রহণ করলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানির ধর্মীয় পরিচয়, অভিবাসী পটভূমি এবং বৈচিত্র্য উদযাপনের অঙ্গীকার ছিল বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তিনি নয়-এগারোর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। বামপন্থী রাজনীতি ও ব্যক্তিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনার মুখে পড়লেও মামদানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি নিজের পরিচয় আড়াল করবেন না। তাঁর ভাষায়, তিনি গর্বের সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।