Image description
 

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলার তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখনো রাশিয়ার সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক কমেছে, তবুও তা পুরোপুরি থামেনি।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারতের ক্ষেত্রে ২৫% বাড়তি শুল্কের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভারত এই পদক্ষেপকে “অন্যায্য” বলে অভিহিত করেছে, কারণ তাদের মতে, অন্য দেশগুলোও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছে।

মার্কিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বাণিজ্য প্রায় ৯০% কমে গেছে। তবুও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একই বছরে রাশিয়া থেকে ৪১.৯ বিলিয়ন ডলার (৩৬ বিলিয়ন ইউরো) মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত ইইউ-র রাশিয়া নির্ভরতা ৮৬% কমেছে।

 

মার্কিন আমদানির প্রধান খাত হলো সার, প্যালাডিয়াম, ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৯২৭ মিলিয়ন ডলারের সার আমদানি করেছে, প্যালাডিয়াম আমদানি হয়েছে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার।

 

ইউরোপের আমদানির প্রধান খাত হলো তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, লোহা-ইস্পাত, সার ও নিকেল। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তেল আমদানি ১.৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বেড়ে হয়েছে ৫.২৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ইস্পাত ও লোহার আমদানি ছিল ৮৫০ মিলিয়ন ডলার, সার ৬৪০ মিলিয়ন ডলার এবং নিকেল ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধ চললেও শত শত পশ্চিমা কোম্পানি এখনো রাশিয়ায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বহু খুচরা, সফটওয়্যার এবং ভোক্তাপণ্য ব্র্যান্ড রাশিয়ায় থেকে যাওয়ায় সাধারণ রুশ নাগরিকদের জীবনে কিছুটা স্বাভাবিকতা বজায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ভারত ও চীনের রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিপুলভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারত রাশিয়া থেকে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে ৫৩ বিলিয়ন ডলারই তেল ও অপরিশোধিত তেল। যুদ্ধের আগে ২০২১ সালে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ৮.৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের ৩৬% আসে রাশিয়া থেকে।

চীন ২০২৪ সালে রাশিয়া থেকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে ৬২.৬ বিলিয়ন ডলারই তেল ও অপরিশোধিত তেল। বর্তমানে চীনের মোট অপরিশোধিত তেলের ১৩.৫% সরবরাহ করছে রাশিয়া।