Image description

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে। চারদিকে মহাশূন্য, আর নীচে নীল গ্রহ। অথচ সেখানেও বাদ গেল না গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী অনিল মেনন। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনে থাকা আরও দুই মার্কিন নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিনস ও লুক ডেলানিও ভোট দিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে মহাকাশ থেকেই ইলেকট্রনিক ব্যালট পাঠান তিন নভোচারী। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনই হয়ে ওঠে তাদের অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র।

নিজের এই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন অনিল মেনন। ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশ স্টেশনের ভিতরে নিজের ঘুমানোর ছোট্ট জায়গাটিকেই ভোট দেওয়ার কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কম্পিউটারের সাহায্যে ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করে পাঠিয়ে দেন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে। তার পোশাকে লাগানো ছিল ‘আই ভোটেড’ স্টিকার।

ভিডিওর সঙ্গে মেনন লেখেন, ‘হ্যাঁ, মহাকাশ থেকেও ভোট দেওয়া যায়! মহাকাশ স্টেশনে থাকা তিন মার্কিন নভোচারীই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করে নিরাপদে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছি।’

মেনন ও তার দুই সহকর্মীর ভোট পৌঁছেছে টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে। নাসার জনসন স্পেস সেন্টার এবং মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিউস্টনে অবস্থিত হওয়ায় ওই কাউন্টিতেই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাদের জন্য।

এই ভোট পাঠানোর পিছনে রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তি। নাসার ‘নিয়ার স্পেস নেটওয়ার্ক’- এর মাধ্যমে মহাকাশ স্টেশন থেকে ব্যালট পাঠানো হয় পৃথিবীতে। নিরাপত্তার জন্য ব্যালট এনক্রিপ্ট করা থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট নভোচারী এবং অনুমোদিত নির্বাচনী কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে সেই তথ্য দেখা সম্ভব নয়।

মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ১৯৯৭ সালে টেক্সাসে একটি আইন চালু হওয়ার পর থেকে মার্কিন নভোচারীদের মহাকাশে বসে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ওই বছর রাশিয়ার মির মহাকাশ স্টেশন থেকে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন নাসার নভোচারী ডেভিড উলফ।

অনিল মেনন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তাঁর বাবা- মা ভারত ও ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। মিনেসোটায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা মেননের এই মহাকাশযাত্রা তাই ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। পৃথিবী থেকে বহু দূরে থেকেও নাগরিক দায়িত্ব পালনের এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে দূরত্ব সব সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।


তথ্যসূত্র: নাসা, স্পেস ডট কম