Image description

মোদিবিরোধী আন্দোলনে জড়িতদের জন্য সরকারি চাকরির দরজা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ‘শাসন পরিবর্তনের’ ডাক দিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের চরিত্র ও অতীত ইতিহাস যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশের নিয়োগ ও কর্মী বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্যের সকল সরকারি দপ্তর, রাষ্ট্রীয় করপোরেশন, পরিষদ এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে।

যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন বলছে, কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না।

নতুন নীতিমালা মতে, সহিংস উপায়ে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন করতে চায় এমন সংগঠনের সদস্যরা সরকারি চাকরিতে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

এতে আরও বলা হয়, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর হলে কিংবা তদন্ত চলমান থাকলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হবেন না। এ ছাড়া আদালত থেকে খালাস পাওয়া ব্যক্তি, সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা কিংবা কিশোর বিচার আইনের আওতাধীন বিষয়গুলো প্রার্থীর চাকরির ক্ষেত্রে বাধা হবে না। তবে তদন্তে অসত্য তথ্য বা অযোগ্যতা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক নিয়োগ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে একে ব্রিটিশ আমলের মানসিকতা বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

 

সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীর বলেন, ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে এমন নির্দেশ জারি করা হতো। কিন্তু স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদের অধিকার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শাসন পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান সরকার জনগণকে ভয় দেখানোর মানসিকতা লালন করছে বলেই ব্রিটিশ আমলের মতো নির্দেশ দিচ্ছে।’

এই নির্দেশকে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভী বলেন, ‘যোগী সরকার বিচারকের মতো আচরণ করছে। এই বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কি সরকারের, নাকি আদালতের? এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে সরকার বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের (জেন-জি) আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে।’

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু