Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও আদালতে ধাক্কা খেল হোয়াইট হাউস। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারবে না প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি এ বিষয়ে আগের আদেশের সুরক্ষা বাড়িয়ে দেন। ফলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকেরা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, যদি না উচ্চতর আদালত আদেশটি স্থগিত করে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিচারক তার আদেশে বলেছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জয়ী হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের অধিকারও বিবেচনায় নিয়েছেন আদালত।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন নিয়ে ভুল ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রকাশ করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় তিন সংবাদমাধ্যম। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পছন্দসই সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিকদের শাস্তি দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সংবিধান প্রদত্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারক কেলি প্রথমে জরুরি আদেশ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবারের নতুন আদেশে সেই সাময়িক সুরক্ষাকে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বহাল রাখা হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে, যদি আপিল আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দেয়।

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ট্রাম্পের নিজের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন তার পছন্দ না হওয়াই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরা হলেও, সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিচারক এ-ও স্পষ্ট করেছেন, তার আদেশের অর্থ এই নয় যে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে ট্রাম্পের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশ করা হলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গি অপছন্দ হওয়ার কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, সেটিই এই মামলার মূল প্রশ্ন।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর কিছু প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা বলেছেন, এসব যুক্তি নিষেধাজ্ঞার পর সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

সাংবাদিকদের পক্ষে আইনজীবী থিওডোর বুট্রস আদালতে যুক্তি দেন, সংবাদ পরিবেশনের ধরন পরিবর্তনে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ সরকারকে দেওয়া যায় না। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বিচারক টিমোথি কেলিকে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বিচারক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তার এ আদেশ এমন এক সময়ে এলো, যখন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তবে আদালতের সর্বশেষ আদেশে স্পষ্ট হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ থাকলেই সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা যাবে না—এ ধরনের পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা আদালতের পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে পারে।