ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে একে ‘স্বৈরাচারী’ সরকার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে।
বৃহস্পতিবার (১৫অক্টোবর) দিল্লি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অভিজিত বলেন, নরেন্দ্র মোদী একজন স্বৈরাচারীতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তার জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সাহস নেই।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি এ ধরনের মানুষদের আটক করতেই চান, তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল আপনারা মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখবেন?
যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া এবং সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অভিজিত।
গত কয়েক দিনে সিজেপি কর্মী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং আটকের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে অভিজিত প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল? তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে এমনটি ঘটত, আর এখন মোদি ও শাহের পুলিশও একই কাজ করছে। আজ এমন একটা সময় এসেছে যে আমাদের নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনেও মোদী সরকারের সমালোচনা করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রশ্ন করেন, নরেন্দ্র মোদির কাছে ঠিক কী কারণে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?
অভিজিতের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের প্রদেশে জাতীয় পতাকা ওড়াননি। অথচ আশুতোষ ও সৌরভ জাতীয় পতাকা ওড়ানোয় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে দেশের শাসনব্যবস্থা ও সংবিধানের আদর্শের কথা তুলে ধরে অভিজিত বলেন, এই দেশ গান্ধীর আদর্শ এবং বাবা সাহেবের সংবিধান অনুযায়ী চলবে।