দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে শনিবার দিনভর সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় ধরপাকড়। এই পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে উদ্বেগ প্রকাশ জানায় জাতিসংঘ। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগকে ‘অযাচিত’ বলে উল্লেখ করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) শনিবার বিবৃতি দেয়। দিল্লি পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, ‘দিল্লিতে শনিবারের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য আমরা দেখেছি। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আমাদের সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সবাইকে দিয়েছে। এখানে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, সংবাদমাধ্যমও স্বাধীন। অন্য যেকোনো গণতন্ত্রের মতোই ভারতের নাগরিকেরা শৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসংগত কিছু বিধিনিষেধের সাপেক্ষে তাদের এই অধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী কাজ করে। যে কোনো অভিযোগের জন্য আমাদের আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘ ভুল জায়গায় তাদের এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এটা অবান্তর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
এতে আরো বলা হয়, ‘নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার যে দায়িত্ব জাতিসংঘের রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের উচিত বিশ্বের অন্য জায়গায় সংঘটিত বিক্ষোভগুলোর দিকেও সমান নজর দেওয়া।’
দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে পথে নেমেছে সিজেপি। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তার অনুমতি দেয়নি। ফলে এই বিক্ষোভ ঠেকাতে তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। সিজেপির প্রধান তিন নেতা— দীপকে, সৌরভ এবং রাঙ্কা মুম্বই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন