গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় কার্যকর করা না হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। রোববার সকালে লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে উত্তর তেমুহনী এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ দুটি ভোট দিয়েছিল—একটি সরকার গঠনের জন্য, অন্যটি গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর জন্য। সরকার দলীয় ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসলেও গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে অস্বীকার করছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একটি ভোট যদি বৈধ হয়, তবে একই দিনে দেওয়া অপর ভোটটি কেন অবৈধ হবে? আপনারা যদি গণভোটের রায় মেনে না নেন, তবে স্বাভাবিকভাবেই এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কারণ জনগণ দুটি ভোটেই অংশ নিয়েছিল।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাদের বর্তমান লংমার্চ কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়, বরং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার তাগিদ দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।