Image description

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি ভয়াবহ।’

সৌদি বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘সৌদিরা ভালো যোদ্ধা। তবে আমার মনে হয়, হামলাটি ছিল ভয়াবহ ঘটনা।’

শনিবারের এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বাহিনীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে হামলার দায় কার, সে সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

 

বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে শুধু একটি হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

 

ফ্লাইটরাডার২৪ বলছে, গতকাল ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মোট ২২২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে দেরি হয়েছে।

 

গত বৃহস্পতিবার ও এর আগে চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থা সৌদি আরবের রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে।

 

হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন।

 

তার দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে ‘যেন বিশ্ব বুঝতে পারে ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য কোথাও একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম প্রযোজ্য হতে হবে।’