Image description

সহপাঠীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীর

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ওই অভিযোগ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন। তারা তৃতীয় কোনো সংস্থার মাধ্যমে এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের সব ঘটনার ক্ষেত্রে স্বাধীন শুনানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম শাস্তি নিশ্চিত এবং যৌন সহিংসতা ও হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ মোকাবিলায় ক্যাম্পাস পুলিশের উন্নত প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

এদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখতে তাকে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে উল্লেখ করা হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাইকেল কটলিকফ এবং তার প্রশাসনের অন্য সদস্যদের পদত্যাগও দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীতির কারণে ক্যাম্পাসে ‘ধর্ষণের সংস্কৃতি’ চলে আসছে।

সহপাঠীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি

গত মাসে এক মামলায় জেন ডো অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি বারে তাকে মাদক ও মদ খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন বা অসহায় অবস্থায় চলে গেলে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাই ফাই ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন সদস্য তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।

ঘটনার সময় জেন ডোর বয়স ছিল ২০ বছর। মামলায় তিনি কাই ফাইয়ের সাত সদস্যকে আসামি করেছেন। পাশাপাশি ওই ছাত্র সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, স্থানীয় একটি বার, তিনি নিজে যে নারী শিক্ষার্থীদের সংগঠনে যুক্ত ছিলেন এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর জেন ডো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সংস্থাও তাতে যোগ দেয়। তবে স্থানীয় প্রসিকিউটর শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনেননি।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর কর্নেল কর্তৃপক্ষ কাই ফাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বন্ধ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সবাই অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন জেন ডোর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক তার সম্মতিতেই হয়েছিল। আবার কেউ কেউ ঘটনায় নিজেদের পুরো সম্পৃক্ততাই অস্বীকার করেছেন।

জেন ডোর মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজনকে ‘ব্যক্তি সমালোচনামূলক প্রবন্ধ’ লিখে নিজেদের শাস্তি কমানোর সুযোগ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সহপাঠীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি
 

অন্যদিকে সোমবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অভিযোগে বর্ণিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করতে হবে অথবা তিনি এরইমধ্যে ডিগ্রি পেয়ে থাকলে সেই ডিগ্রি বাতিল করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিচালিত স্বাধীন সংবাদপত্র কর্নেল ডেইলি সান জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে তারা একটি বিবৃতি পেয়েছে। সেখানে আন্দোলন চলাকালে ভাঙচুরের ঘটনাকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর এক দিন আগে জেন ডো এবং তার আইনজীবী জানান, মামলার পর থেকেই তারা একাধিক হুমকি পেয়েছেন। মামলাটি ঘিরে নিউইয়র্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশ ট্যাগ আইঅ্যামজেনডো’ স্লোগান ব্যবহার করে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সংস্থা কেন এ ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ এগিয়ে নেয়নি।

 

তবে এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ  জেন ডোর পরিচয় গোপন রাখা ন্যায়সংগত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের যুক্তি, পরিচয় গোপন থাকায় ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে তাদের অভিযোগকারীর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।