জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ হয়েছে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারানডনসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় এই ঘটনা ঘটে।
গাজায় সামরিক হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদ এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন। তারা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের সড়ক অবরোধ করেন।
‘বোমা নয়, মানুষের জন্য তহবিল দাও’ স্লোগানযুক্ত টি-শার্ট পরিহিত সুসান সারানডন ৩৯ নম্বর সড়কে অবস্থান নেন। বিক্ষোভ চলাকালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ৭৯ বছর বয়সী সুসান সারানডনসহ ১০৩ জনের বেশি মানুষকে আটক করে। পরে অবশ্য সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকদের মধ্যে নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারসহ নয়জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থী ছিলেন।
বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ (জেভিপি), এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ), ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলন এবং দ্য পিপলস ফোরাম।
বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর কারাবন্দি পোশাক পরিহিত কুশপুতুল প্রদর্শন করে স্লোগান দেন, ‘নেতানিয়াহু তুমি লুকাতে পারবে না, আমরা তোমার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা হোসে বলেন, ‘নেতানিয়াহু এখানে আসা চরম অসম্মানজনক, তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা বরদাশত করব না।’
ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলনের সদস্য নাস ইসা বলেন, ‘ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে তাঁদের পেশিশক্তির প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বিবৃতিতে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর স্থান হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে, নিউইয়র্কের রাস্তায় বা জাতিসংঘে নয়।’
জেভিপি সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকায় শিশুদের ওপর বোমা ফেলা হোক, সেই অর্থ এখানকার স্কুলে দেওয়া হোক। গণহত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
যুব আন্দোলনের সংগঠক তাহের দাহলেহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক আসামিদের জন্য এই শহর কখনোই নিরাপদ আশ্রয় হবে না এবং সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’
বাইরে যখন বিক্ষোভ চলছিল, তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় ইসরায়েল এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা