জোড়াফুল প্রতীক হারানোর পর একে একে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়ালেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দুই প্রার্থী। শুক্রবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন সঞ্চিতা প্রধান দে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার রেজিনগর থেকেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন রবিউল আলম চৌধুরী। ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর— দুই আসনের উপনির্বাচনেই মমতা শিবিরের কোনো প্রার্থী থাকল না।
ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কংগ্রেসের দুপক্ষের মধ্যে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের জেরে কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক আপাতত স্থগিত করে। ফলে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো পক্ষই ওই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
এর পরদিন কমিশন মমতা শিবিরের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করে। ঋতব্রত শিবিরের নাম দেওয়া হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম’।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, জোড়াফুল রক্ত, সংগ্রাম ও মানুষের ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে। প্রতীক হারানোর ঘটনায় দলের কর্মীরা রাতভর কেঁদেছেন বলেও জানান তিনি।
মমতার বক্তব্য, দল ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ও আইনি পথে জোড়াফুল ও দলের পরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই চলবে। এরই মধ্যে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তিনি।
বিরোধী শিবির অবশ্য এই পরিস্থিতির দায় মমতার ওপরই চাপিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, দলকে একজোট রাখতে না পারার দায় মমতার। তার দাবি, এতে বিজেপির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও শনিবার রবিউল আলমের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে মমতা শিবিরের সাংগঠনিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন।
নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা সরে দাঁড়ানোর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মমতা নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। সঞ্চিতার সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে মমতা অভিযোগ করেন, তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তবে মমতা শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। সঞ্চিতা চাপ সহ্য করতে পারেননি এবং নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের সংগঠনও দুর্বল।
এরপর শনিবার রেজিনগরেও একই ঘটনা ঘটে। রবিউল আলম চৌধুরী বলেছেন, নতুন প্রতীক এত অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পরিচিত করা কঠিন। তার বক্তব্য, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না।
তাদের ওপর চাপ রয়েছে। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এসব কারণে ভোটে লড়ে কী লাভ— এ প্রশ্ন থেকেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রবিউল আলম।