Image description

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে নতুন অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ফলে এই জোটে নতুন দেশ যুক্ত হতে পাবে। এটি পুরোপুরি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। এই চুক্তির ফলে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সঙ্গেও কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জোর দিয়েছে পাকিস্তান।

 

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার টম বার্জেস ওয়াটসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, এই চুক্তিতে ‘সর্বদা নতুন ইচ্ছুক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে’। এসব অংশীদার অনাক্রমণ, হস্তক্ষেপ না করা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের বিষয়ে তিন দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত হবে। জোটটি কীভাবে বা কখন সম্প্রসারিত হতে পারে, সে বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতৃত্বই নেবে।

 

মক্কা চুক্তিটি একটি বৃহত্তর মুসলিম সামরিক জোট গঠনের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিতে এমন কিছুই বলা নেই যে এটি একটি মুসলিম জোট।’ বরং তিনি এটিকে একটি ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, চুক্তিটি তিন দেশের দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এটি সম্মিলিত প্রতিরোধের ভিত্তিতে গঠিত। এর মধ্যে কোনো আক্রমণাত্মক, হস্তক্ষেপমূলক বা আগ্রাসী উপাদান নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক।

 

 

জোটটি ইরানের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বলেন, তা হয়নি। তার যুক্তি, ইসলামাবাদ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্বাধীন এবং তা ইরানের স্বার্থে নয়। তা চীনের স্বার্থেও নয়। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক একইভাবে যোগ্যতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

 

পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সংঘাত যাতে আরও না বাড়ে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানকে উৎসাহিত করা যায়, সে লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছে।

 

মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। পাকিস্তানের নেতৃত্ব সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে ‘সামরিক সমাধানের পরিবর্তে, আমরা এই অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির একটি সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছাতে পারি।’

 

ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে যুক্তি দেন তিনি। জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, প্রতিবেশীসুলভ ও অত্যন্ত কৌশলগত সম্পর্ক’ রয়েছে। মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত। এই সংঘাতে জড়িত বা এর আওতাধীন পক্ষগুলোর একটি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।