যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাবিত বৈঠক নিয়ে তিনি ‘চিন্তিত নন’। ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরোয়া করি না। এটা তাদের বিষয়।’ সোমবার ওমানে ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেহরান ও আবুধাবির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। রোববার তিনি বলেন, দুই দেশ এই সংঘাতের বিষয়টি পেছনে ফেলে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে আমাদের গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।’ এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই অধ্যায় পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাব এবং একসঙ্গে সেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব—এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বৈঠক করলে তাতে তার ‘কিছু যায় আসে না’। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করবে কি না, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোই এই বৈঠকের লক্ষ্য। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের মধ্যে এই বৈঠক হচ্ছে। এর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে যেত।
গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছিল, তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করছে।
শনিবার ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের মধ্যে বৈঠকটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর উচিত নয় নিজেদের মাটি থেকে ‘শত্রুদের’ হামলা চালাতে দেয়া: পেজেশকিয়ান
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বা এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে আপত্তি রয়েছে বলে জানান তিনি। যুদ্ধের সময় এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের ইউএইর সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। এ অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের সমস্যা নেই। আমাদের সমস্যা হলো, এসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিয়ে। এসব ঘাঁটি থেকেই তারা আমাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ইউএই, আমিরাতের জনগণ এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো আমাদের ভাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছি এবং আমাদের মধ্যে বাণিজ্য রয়েছে। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করেছি।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর উচিত নয়, ‘শত্রুদের’ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর সুযোগ দেয়া।
১১ সদস্যের জোটটি শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং সর্বোচ্চ সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।