ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাদের সর্বশেষ অগ্রগতির পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর একদিন আগে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখল করে হুথিরা।
ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই অগ্রগতি নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব
বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই সংকীর্ণ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কারণ পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য লোহিত সাগর দিয়ে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।
সৌদি তেলের জন্য কেন বিপদ
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এই পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এর ফলে পারস্য উপসাগরের বদলে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর পাইপলাইনটির সক্ষমতা দিনে ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে সৌদি আরব। যুদ্ধের আগে সক্ষমতা ছিল প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল।
ফলে আগে তুলনায় সৌদি তেলের আরও বড় অংশ এখন বাব আল-মান্দেব হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে। এই নৌপথও যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে সৌদি তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
হুথিরা কি সত্যিই লোহিত সাগর বন্ধ করতে পারবে?
এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এতটা সরল নয়।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, হুথিদের পক্ষে পুরো লোহিত সাগর দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখা কঠিন। তবে তাদের জন্য পুরো প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করারও প্রয়োজন নেই।
বাব আল-মান্দেব দিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ—এমন ধারণা তৈরি করতে পারলেই জাহাজ চলাচলে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
জাহাজ কোম্পানি ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি বাড়লে ওই পথ এড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সামরিকভাবে পুরো নৌপথ বন্ধ না করেও হুথিরা কার্যত জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিতে পারে।
এতে পরিবহন ব্যয়, বিমা খরচ এবং পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবের পাল্টা ব্যবস্থা
হুথিদের অগ্রগতি থামাতে সৌদি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোখাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো এসব হামলার লক্ষ্য ছিল।
তবে এসব হামলা এখন পর্যন্ত হুথিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি বলে বক্তব্য বিশ্লেষকদের।
সূত্র: আল-জাজিরা