Image description

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার দখল করা সম্পদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে রাশিয়ার একটি জাহাজ জব্দ করেছে নরওয়ে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আর্কটিক অঞ্চলের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে ‘প্রফেসর মলচানভ’ নামের জাহাজটি জব্দ করা হয়।

ইউক্রেনের জ্বালানি কোম্পানি নাফটোগাজের ক্ষতিপূরণ দাবির ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়া তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালে দ্য হেগের একটি আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনাল রাশিয়াকে নাফটোগাজকে ৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর সঙ্গে সুদ ও আইনি খরচও পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া এখনো সে অর্থ দেয়নি।

নাফটোগাজের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী মার্কিন আইন প্রতিষ্ঠান কোভিংটন জানিয়েছে, তারা কয়েক মাস ধরে ‘প্রফেসর মলচানভ’ জাহাজটির গতিবিধি নজরে রাখছিল। রাশিয়ার মালিকানাধীন এই জাহাজটি বাণিজ্যিক ক্রুজ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। স্ভালবার্ডেও এটি যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছিল।

কোভিংটনের ভাষ্য, নরওয়ের কোস্ট গার্ডের সঙ্গে প্রায় ২৪ ঘণ্টা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর জাহাজটি জব্দ করা হয়।

নাফটোগাজ বলেছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাওয়া আন্তর্জাতিক সালিশি রায় কার্যকর করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার সম্পদ জব্দের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

নাফটোগাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সের্গেই ফেদোরেঙ্কো বলেন, আন্তর্জাতিক সালিশি রায় মেনে না নিলেই রাশিয়া তার দায় এড়াতে পারে না।

তবে নরওয়ের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছেন।

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য ও আর্কটিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী আলেক্সেই চেকুনকভ বলেছেন, মস্কো জাহাজ জব্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাবে। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর ‘আইনহীনতা ও আইনের প্রতি অবজ্ঞার’ আরেকটি উদাহরণ।

এদিকে নাফটোগাজ জানিয়েছে, জাহাজে থাকা যাত্রীদের বিষয়টি নরওয়ের কর্তৃপক্ষ দেখভাল করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা