নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ২৮ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বরুনদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই ছাত্রের মায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
এর আগে, বিকেলে মাদ্রাসার সামনে ভুক্তভোগী ছাত্রটির পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরও করেন বিক্ষুব্ধরা। পরে স্থানীয় একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন বলে জানান পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
ভুক্তভোগী হেফজ বিভাগের ছাত্র গত বছর ভর্তি হন এবং এ মাদ্রাসারই আবাসিকে থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারের বরাতে আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রটিকে এর আগেও বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করা হয়েছে। সবশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে তাকে মাদ্রাসার বাথরুমে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে বলাৎকার করা হয়। এতে ওই ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে তাকে যৌন নির্যাতনের কথা মাকে জানালে বিষয়টি জানাজানি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার বলেন, ছাত্রটির স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।