Image description

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তৎপরতার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফের গোপন মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। যুদ্ধের শান্তি আলোচনা ফের শুরু করার সম্ভাবনাও ওই সফরে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

২৫ আগস্ট গোপনে মস্কো সফরে যান র‌্যাটক্লিফ। পরদিন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে, তবে পুতিন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে বৈঠক করেননি। পেসকভ বললেন, ‘অবশ্যই, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়।’ তিনি বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

পরে রুশ বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার (এসভিআর) প্রধান সের্গেই নারিশকিনও জানান, মস্কোয় র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, র‌্যাটক্লিফ রুশ ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থার (এফএসবি) পরিচালক আলেকজান্ডার বোর্তনিকভের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

মস্কোর আলোচনা এবং ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলেনস্কিকে অবহিত করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। র‌্যাটক্লিফ শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প র‌্যাটক্লিফের সফরকে ‘আংশিকভাবে নিয়মিত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। টক শো উপস্থাপক গ্লেন বেক জানতে চেয়েছিলেন, পুতিন ন্যাটোর দৃঢ়তার পরীক্ষা নিতে চাইছেন কি না, অথবা র‌্যাটক্লিফ ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না। ট্রাম্প বললেন, ‘উপরের কোনোটিই নয়।’

র‌্যাটক্লিফের সফরটি ২০২১ সালের নভেম্বরে উইলিয়াম বার্নসের সফরের পর সিআইএর কোনো পরিচালকের মস্কো সফরের প্রথম জানা ঘটনা। সিআইএ ও এসভিআরের প্রধানদের সর্বশেষ প্রকাশ্য মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে আঙ্কারায়। সে সময় পরমাণু সংঘাতের ঝুঁকি এবং আটক মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন বার্নস ও নারিশকিন।

র‌্যাটক্লিফ ও কোনো জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ প্রকাশ্যে যোগাযোগ হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চে। তখন নারিশকিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। দুই পক্ষ ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার’ এবং মস্কো-ওয়াশিংটনের উত্তেজনা কমাতে সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল এসভিআর।

সূত্র: আরটি