ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক অচলাবস্থা না কাটলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্ট বলেন, প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও যদি ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্য ধরে রাখে, তাহলে পারমাণবিক হামলার মতো পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে।
কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সম্ভাবনাকে অসম্ভব ভাবা বোকামি হবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে।
তার মতে, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে কার্যত দুটি পথ রয়েছে; পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা। তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্ট আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমনকি ইরানের পার্বত্য এলাকায় ভূগর্ভে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সীমিত পারমাণবিক হামলার মতো একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গত এপ্রিলে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এরপরও তিনি একাধিকবার একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কেন্টের দাবি, সংঘাতে ট্রাম্প তার ঘোষিত বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহার করেও ওয়াশিংটন ইরানের নেতৃত্বকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপের মুখে ফেলতে পারেনি।
এর মধ্যেই গত মাসের শেষ দিকে ইরানে সর্বশেষ দফার মার্কিন হামলা আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, পেন্টাগনের উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অস্ত্রের ঘাটতির খবর জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে।
সামরিক অভিযানের পাশাপাশি এখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথেও এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন, যাকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তালিকায় চীনে অবস্থিত ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পক্ষে অর্থপাচারে সহায়তা করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
সূত্র : আরটি