‘ওটা কেবল পানি ছিল না। ছিল কাদার বিশাল এক স্রোত। সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। স্রোত যতই কাছে আসছিল, ততই উচ্চতা বাড়ছিল।’ বলছিলেন কেশব প্রসাদ বড়াল। ৬৮ বছরের এই ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে নেপালের চক্র দেব হাসপাতালে। নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলা থেকে তাঁর মতো অনেককেই উদ্ধার করে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূমিধসের সময় বড়ালের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বড়াল বলেন, ‘আমি স্ত্রীর হাত ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। ওকে ছাদে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাদার স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমি কোনোমতে ছাদে উঠতে পেরেছিলাম। যাওয়ার আর কোথাও ছিল না। পালানোরও কোনো উপায় ছিল না, শুধু ওপরের দিকে ওঠা ছাড়া। আমার স্ত্রী এখন কাদার নিচে কোথাও রয়েছে। ও আর বেঁচে নেই।’
স্ত্রীকে হারালেও বড়াল বেঁচে গেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন রসুয়ার শ্রমিক বিবেক কুমলও। গতকাল নতুন নির্মাণ করা একটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন তিনি। এ সময় পানি, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত আশপাশের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। গর্তের বাইরে থাকা সহকর্মীরা তাঁকে উঠে আসতে বলেন। কিন্তু গর্ত থেকে বেরোলেও রক্ষা হয়নি। ভেসে যান তিনি।
কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ২৪ বছর বয়সী কুমাল বলেন, ‘ভাগ্য ভালো ছিল বলে আমি একটি আমগাছে আটকে যাই। আমগাছটি না থাকলে আমি ভেসে মারা যেতাম।’
গতকাল বুধবার নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ চার শতাধিক। তাঁদের বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক। ভূমিধসে তিব্বতেও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬৫ জন।
এবারের এ বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এর সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।