ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিই ‘মুছে ফেলতে’ চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।
তার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বিলীন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউএনআরডব্লিউএর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুধু একটি স্থাপনা দখলের ঘটনা নয়। এর পেছনে আরো বড় লক্ষ্য রয়েছে।
মঙ্গলবার কাফর আকাব এলাকায় অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হন।
অভিযানে অংশ নেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জেরুজালেম ও ইসরাইলে এই সংস্থার কোনো জায়গা নেই।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই অভিযান ও স্থাপনা খালি করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ বৈধ। একই সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান সন্ডার্সের বক্তব্য, এর লক্ষ্য আরো গভীরে।
তার ভাষ্য, সংস্থাটিকে অর্থসংকটে ফেলে বিলুপ্ত করা গেলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিও আর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে ইসরাইল।
সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করা হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যাটি ‘শেষ হয়ে যাবে’। একই সঙ্গে শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও আর থাকবে না।
কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সন্ডার্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি স্থানীয় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।
তার ভাষ্য, কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৪০ তরুণ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবে। এই কর্মসূচি তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ করে দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্ডার্স বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি হারানোর অর্থ শুধু একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে শত শত তরুণের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।