Image description

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বিরোধিতা করেছেন। আগামী শনিবার ম্যানহাটনে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশ সমর্থন করেন না। তবে কোনো বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার এখতিয়ার সিটি কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমি জানি না।

মামদানি বলেন, তাঁর পরিবার তাঁকে ভারতের যে চিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, সেটি ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখানে ভারতের সব মানুষ সমান বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু বর্তমানে হিন্দুত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

২৯ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল অননেস সেলিব্রেশন’। আয়োজকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করা এবং অভিন্ন ঐতিহ্য ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানটির আয়োজক আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ। কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠনও এতে সমর্থন দিয়েছে। তবে মোহন ভাগবতের উপস্থিতি এবং আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ইতিহাস নিয়ে নিউইয়র্কের বেশ কিছু সংগঠন অনুষ্ঠানিকভাবে সমালোচনা করেছে।

আরএসএস ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী হিন্দু সংগঠন। সংগঠনটি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলে। তবে ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার সঙ্গে আরএসএসের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আরএসএসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস। সংগঠনটি নিজেদের ‘হিন্দুকেন্দ্রিক সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করে। তাদের দাবি, ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলিমদের মালিকানাধীন স্থাপনা ধ্বংস এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার। তারা বলে আসছে, তাদের নীতিগুলো কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুতায়নের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা সব সম্প্রদায়ের মানুষই পাচ্ছেন।

 

সূত্র: রয়টার্স