আবারও আন্দোলনের পথে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নয়াদিল্লিতে সোমবার জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিন রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করবে তারা।
সংগঠনটির দাবি, ২৫ জুলাইয়ের সমঝোতার পর কেন্দ্র যে কথাগুলো দিয়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
এই মিছিলে সামনে থাকার কথা নিট সংক্রান্ত ঘটনায় মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের শিকারদের। দেশের ছাত্র, তরুণ এবং সিজেপির সমর্থকদেরও দিল্লির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ২৫ জুলাই যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। নিট সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে সামনে রেখে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরবর্তীতে তার পদত্যাগের পর কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন তুলে নেয় ছাত্র সংগঠনটি।
কিন্তু এখন সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় দেওয়া আশ্বাসের পরও আন্দোলনকারী ছাত্র ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং নিট সংক্রান্ত ঘটনায় মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ হয়নি। সংগঠনের দাবি, লিখিত আশ্বাস দেওয়ার কথাও এখনও পূরণ হয়নি।
এই ইস্যুতে গত ১৮ আগস্টও কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক করেছিল সিজেপি। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস অভিযোগ করেছিলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় অযথা দেরি করা হচ্ছে। সেদিনই পুলিশের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়।
পরে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি।
সিজেপির বক্তব্য, মোদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আস্থা রেখেই জুলাইয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণে টালবাহানা চললে সেই আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। সেই কারণেই ফের দিল্লির রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বরের জন্য ইন্ডিয়া গেট থেকে পুলিশ সদর দপ্তর পর্যন্ত এই মিছিলের জন্য তাদের কাছে কোনো অনুমতির আবেদন জমা পড়েনি।