Image description

ভারতের গুজরাটের সুরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজারটির নাম ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ রাখার প্রস্তাবে মৎস্য ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আপত্তি জানালে উদ্বোধনের পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও নামসংবলিত ব্যানার সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

 

বিজ্ঞাপন

সোমবার সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাজারটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ লেখা ব্যানার টানানো হয় এবং তাতে নরেন্দ্র মোদির ছবি ছিল। তবে সংগঠনের একাংশের বিরোধিতার পর মঙ্গলবার ব্যানারটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

 

সুরাটের এই বাজারটি শহরের প্রথম পৌর করপোরেশন পরিচালিত পাইকারি মাছের বাজার। এতে ৮০টি মাছ বিক্রির দোকান বা আউটলেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

বাজারটির নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র ও গুজরাট সরকার বাজারটির জন্য ৩ কোটি রুপি করে এবং সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেড় কোটি রুপি দিয়েছে। 

ক্যালকুলেটরও রেফারেন্স টুল ব্যবহার করা

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাজারের নামকরণ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। বাজারে একটি প্লটের মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লাশকারি নামকরণের বিরোধিতা করেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরামিষভোজী হওয়ায় তার নামে মাছের বাজারের নামকরণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও পরিচয়ের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে নামটি সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান।

 

তবে সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালপেশ নাভসারিওয়ালা নামকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অর্থায়নে বাজারটি নির্মিত হয়েছে এবং ‘ব্লু রেভল্যুশন’ বা নীল বিপ্লবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের মৎস্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাই তার নামে বাজারটির নামকরণ করা গর্বের বিষয়। নাম প্রস্তাবের আগে তিনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

 

‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ ভারতের মৎস্য খাতের টেকসই ও দায়িত্বশীল উন্নয়নের মাধ্যমে ‘ব্লু রেভল্যুশন’ ঘটানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এর আওতায় আধুনিক পাইকারি মাছের বাজার, সুপারমার্কেট, খুচরা মাছের বাজার, মোবাইল ও জীবন্ত মাছের বাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পাঁচ বছরে এ প্রকল্পে আনুমানিক ২০ হাজার ৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

 

এদিকে, বাজারটির নাম চূড়ান্ত করার ক্ষমতা এখনো পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজেশ গাঞ্জাওয়ালা জানান, উদ্বোধনের কয়েক দিন আগে ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাজারটির নাম প্রধানমন্ত্রী মোদির নামে রাখার প্রস্তাব পৌর করপোরেশনের কাছে পাঠায়। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

পৌর করপোরেশনের সাংস্কৃতিক কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একাধিক কমিটির একটি। তাদের সিদ্ধান্ত প্রথমে স্থায়ী কমিটির অনুমোদন পেতে হয়। এরপর তা পৌর করপোরেশনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সাধারণ বোর্ডে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া রয়েছে।

 

ফলে উদ্বোধনের পর বাজারটির নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকা ব্যানারটি ঢেকে রাখাই হয়েছে।

 

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস