Image description

ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই সোমবার বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে দোভালের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ‘গভীর আলোচনা’ হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, ‘চীন ও ভারতের বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকই সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগেরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

তিনি বললেন, ‘গত বছরের আগস্টে চীন ও ভারত ২৪তম দফার বৈঠক সফলভাবে আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ সীমান্ত বিরোধ নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করে এবং বেশ কিছু বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছায়। এবারের বৈঠকে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া অভিন্ন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকাগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই পক্ষ সীমান্ত বিরোধ নিয়ে গভীর আলোচনা অব্যাহত রাখবে।’

লিন জিয়ান বলেছেন, দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করবে।



আগামী মাসে ভারতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের কথা রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তার এই সফর হওয়ার কথা। এর আগে দোভালের বেইজিং সফর দুই দেশকে পারস্পরিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ দিচ্ছে।



২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে।



চলতি মাসের শুরুতে দুই পক্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। সীমান্তবিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (ডব্লিউএমসিসি) অধীনে কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ পর্যালোচনা করা হয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষ ‘সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিকব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছে’।



২০২৫ সালের আগস্টে বিশেষ প্রতিনিধিদের সর্বশেষ বৈঠকে ভারত ও চীন ডব্লিউএমসিসির অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠনে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল ‘ভারত-চীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সীমান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা’।



২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। গত বছরের ২৪তম বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত বিরোধে ‘আর্লি হার্ভেস্ট’ নিয়ে কাজ করতে একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

 

চলতি মাসের শুরুতেও দুই দেশ এলএসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যেই সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে দোভালের বেইজিং সফর দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে