Image description

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিন গাজা বা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে দেবেন না। তার ভাষ্য, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু এমন মন্তব্য করেছেন। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাসের বক্তব্যের জবাবে শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি এ কথা বলেন।


মানসুর আব্বাস বলেছিলেন, ফিলিস্তিন ইতোমধ্যে একটি রাষ্ট্র এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকব, ততদিন ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না। ’

এর আগে শনিবার আরব শহর তাইবেতে নিজের দলের সম্মেলনে বক্তব্য দেন মানসুর আব্বাস।

তিনি বলেন, তার দল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তার ভাষ্য, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আছে এবং বিশ্ব তা স্বীকৃতি দিয়েছে। ’ একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার জোটসঙ্গীরা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে উঠে এসেছে।

বর্তমানে নেসেটে লিকুদ পার্টির আসন ৩২টি। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দলটির জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে লিকুদের আসন ২০টিতে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট চ্যানেল ১৩-এর প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার উগ্র ডানপন্থি ও অতি-রক্ষণশীল জোটসঙ্গীরা মিলিয়ে ৫১টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা ১০টি আসন পিছিয়ে থাকবে।

নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে ডানপন্থি ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।


শীর্ষনিউজ