জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক দিন পর দেশটির রাজধানী লুসাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় সাবেক মন্ত্রী মুতোটওয়ে কাফওয়ায়া নিহত হয়েছেন। বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাড়িতে চালানো অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবারের ওই অভিযানে কাফওয়ায়া আহত হওয়ার পর মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাম্বিয়ার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুন্ডুবিলের দল এনআরপিইউপি ‘বিদ্রোহী তৎপরতা’ ও ‘মিলিশিয়া কার্যক্রমের’ সঙ্গে যুক্ত। দলটির কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র মজুদের অভিযোগও করেছে সরকার। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন মুন্ডুবিলে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।সরকারি ফলাফলে প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পেয়েছেন। মুন্ডুবিলে পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ ভোট। তবে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কাফওয়ায়ার বিষয়ে কথা বলার সময় মুন্ডুবিলে জানান, অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সাবেক মন্ত্রীর আর কোনো খোঁজ তিনি পাননি।
তার দাবি, অভিযানটি তার নিজের বাড়িতে চালানো হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এতে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা নিহত ব্যক্তিকে ৪৯ বছর বয়সী মুতোটওয়ে কাফওয়ায়া হিসেবে শনাক্ত করেন।
কাফওয়ায়া ২০১৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গু তাকে গণপূর্তমন্ত্রী করেন। পরের বছর তিনি পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের নির্বাচনে লুঙ্গু হিচিলেমার কাছে পরাজিত হলেও কাফওয়ায়া বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে জাম্বিয়ার নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন জানিয়েছে, ভোটের আগে বিরোধীদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের কারণে প্রতিযোগিতার পরিবেশ অসম হয়ে উঠতে পারে।
ইইউর বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় ঘণ্টা বিরতির পর ভোট গণনা শুরু হলে ফলাফল সংকলনের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মীদের ওপর হামলা এবং ব্যালট বাক্স চুরির অভিযোগের পর গণনা স্থগিত করেছিল।
পর্যবেক্ষকেরা আরও জানান, অনেক গণনা কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে ট্যালি শিটে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ডিজিটাল তথ্যের সঙ্গে কাগজের নথি মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা ছিল। কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
গণনাকেন্দ্রগুলোতে সামরিক বাহিনীর বড় উপস্থিতি এবং কয়েকটি কেন্দ্রে হামলার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পর্যবেক্ষক মিশন।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাম্বিয়ার মানবাধিকার কমিশন।
আইনগত সময়সীমার বাইরে কাউকে আটক রাখা হলে তাকে আদালতে হাজির করা অথবা মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে বেআইনি আটক ও নিখোঁজের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।
শীর্ষনিউজ