Image description

 

নেপাল থেকে ভারতে সবচেয়ে বেশি কী যাচ্ছে? পাম অয়েল বা জলবিদ্যুৎ নয় বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিল এবং প্রতিবাদের ডিজিটাল ভাষা। নেপালি টাইমসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে , গত বছরের নেপালের গণ আন্দোলনে ভাইরাল হওয়া ভিডিও, মিম ও প্রতিবাদের কৌশল এ বছর ভারতের যুব আন্দোলন, বিশেষ করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুতে জলকামানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাহসী তরুণের ভিডিও কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও সেটি ‘ইন্ডিয়ান জেন জি’-এর প্রতীক আবার কোথাও প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একইভাবে নেপালে জনপ্রিয় হওয়া একাধিক মিম সহ টিকটক অডিও ও ভিডিও সম্পাদনার ধরনও ভারতের ছাত্র আন্দোলনে দেখা যায়।

নেপাল ও ভারত সীমান্ত দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক,চালান, কাগজপত্র ও নানা প্রক্রিয়া থাকলেও একটি ইনস্টাগ্রাম রিল মুহূর্তের মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আর এই ডিজিটাল প্রবাহে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো। নেপালি টাইমস এর প্রতিবেদনটি নেপাল ও ভারতের আন্দোলনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও তুলে ধরেছে। নেপালে ভাইরাল হওয়া অধিকাংশ ছবি ও ভিডিও মানুষকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ভারতে অনেক রিলে দেখা গেছে কীভাবে পুলিশের জলকামান বা লাঠিচার্জ এড়িয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে হবে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে যে, দিল্লির জন্তর মন্তরের আন্দোলনে সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, টি-রেক্স কিংবা মহাত্মা গান্ধীর বেশে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীদের ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এমন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি আন্দোলনকে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় করলেও অনেক সময় মূল দাবিগুলো আড়ালে চলে যায়। প্রতিবেদনে ‘অরা ফার্মিং’ বা ভাইরাল হওয়ার সংস্কৃতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নেপাল ও ভারতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনা টেনে বলা হয়েছে, নেপালে নেতৃত্বহীন আন্দোলনের ফলে সরকারই ক্ষমতা হারায়। কিন্তু ভারতে সংগঠিত নেতৃত্ব থাকায় আন্দোলন আলোচনার টেবিলে পৌঁছায় এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে তাৎক্ষণিক সাফল্য মিললেও পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও শিক্ষানীতির মৌলিক সংকট এখনো অমীমাংসিত।