Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন দায়িত্ব নেবে।

 

আল-জাজিরার হাতে আসা চুক্তির নথি অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া একদিনে নয়; এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের বিস্তারিত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থার অনুমোদনে সময় বাড়ানো যেতে পারে।

 

বোর্ড অব পিসের গাজা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ বলেছেন, এ চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘অত্যন্ত কঠিন আলোচনার কয়েক মাস’ লেগেছে।

 

শুক্রবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এমন বেশ কয়েকটি মুহূর্ত ছিল যখন আমি বিশ্বাস করিনি যে আমরা এটি করতে পারব, তিনি আরও যোগ করেন যে প্রাথমিক চুক্তির চেয়েও এর পরবর্তীতে কী ঘটবে তা "আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

ম্লাদেনভ বলেন, বাস্তবায়ন এবং যাচাইকরণকে বাস্তব হতে হবে।

প্রত্যাহারকে নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

 

চুক্তির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাসের সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে এবং যুদ্ধবিরতির অধীনে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হবে। একই সময়ে গাজার জন্য গঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (NCAG) নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেবে।

পরবর্তী ধাপে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে হামাস তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করবে। এরপর আন্তর্জাতিক যাচাই শেষে অস্ত্রগুলো নতুন ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করা হবে। পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় আট মাস সময় লাগতে পারে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ কার্যকরভাবে এগোলে ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। পরে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilization Force) এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠন, আবাসন নির্মাণ এবং কংক্রিট, ইস্পাত ও জ্বালানির মতো এতদিন সীমিত থাকা নির্মাণসামগ্রী প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আল-জাজিরা বলছে, হামাস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইসরায়েল গাজার দখল বজায় রাখলে তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তাদের মতে, নিরস্ত্রীকরণ ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় এবং তা বাইরের পক্ষ চাপিয়ে দিতে পারে না।

 

অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা গাজি হামাদ পরে জানান, ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হলে নতুন গাজা প্রশাসনের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলও চুক্তিটি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির অবস্থান হলো, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে উভয় পক্ষের শর্ত পূরণই এই সমঝোতা বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিকল্পনা সফল হলে হামাসের প্রায় দুই দশকের গাজা শাসনের অবসান ঘটতে পারে এবং একটি প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠনের পথ খুলতে পারে। তবে অতীতের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সংঘাতের কারণে এই সমঝোতার বাস্তবায়ন এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।