Image description

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৫তম ধাপে জর্ডানের কিং ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত আইআরজিসির ৪২তম বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ কোডনামে পরিচালিত এই অভিযান মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবা বিদ্যালয়ের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে কিং ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

 
 

আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়। পরবর্তী হামলায় ড্রোন সংরক্ষণাগারে থাকা সংযোজনের আগের অবস্থায় থাকা আটটি নতুন এমকিউ-৯ ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি ড্রোন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ।

 
 

এছাড়া হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় দুটি ভারী মার্কিন হেলিকপ্টার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সেনাদের আবাসন ভবনে হামলায় আগ্রাসী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে চালানো হয়েছে। অথচ আগের রাতে কোনো জাহাজ দক্ষিণ রুট দিয়ে চলাচলের সাহস করেনি এবং কোনো বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, তবুও শিশুহত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের আগ্রাসী চরিত্র থেকে সরে আসেনি এবং আমাদের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এখন কঠোর প্রতিশোধের মুখোমুখি হচ্ছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, আগ্রাসীর শাস্তি অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, হামলার যথাযথ মূল্য না পরিশোধ করলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও যুদ্ধ শুরু, আলোচনা এবং পুনরায় যুদ্ধের একই কৌশল অনুসরণ করবে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান জবাব যথেষ্ট না হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে এমন একটি অভিযান চালানো হবে, যার পরিণতিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোক ঘোষণা করতে হবে।

কালবেলা/