যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এর মাধ্যমে দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। বুধবার (২২ জুলাই) চুক্তিটির আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউস এ থেকে বেশি সুবিধা পাবে।
তবে চুক্তিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্য। এছাড়া ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারে।
এমন একটি চুক্তি নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই উদ্যোগ থেমে যায়। চুক্তিটি কার্যকরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য যাবে। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শক প্রবেশে বিশেষ ছাড় এবং সৌদি আরবকে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া।
এর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও তা করবে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরিচালিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগে দেশটিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়।
চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় হচ্ছে। এ ধরনের চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত থাকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ৫১টি দেশ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে এ ধরনের ২৬টি চুক্তি রয়েছে।
চুক্তিতে সৌদি আরবের দুটি গোপন সমঝোতাও হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নথিতে বাণিজ্যিক ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। তবে কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য পুরো নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পক্ষে ভোট দিবেন না।
এদিকে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও স্থিতিশীল করবে।