ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গত সোমবার বড় কর্মসূচি নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘সংসদ চলো’আন্দোলন ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পুলিশ বাধা দিলে ক্ষণিকের মধ্যে বদলে যায় পরিস্থিতি। আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি না থামালে নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি টিয়ারগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সবাই যখন দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করছিল, ঠিক সেই সময় পাশেই সড়কে দাঁড়িয়ে বার্গার খাচ্ছিলেন সিজেপির মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া; এমন দাবি সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঝড় ওঠে সমালোচনার। অবশেষ তাকে বহিষ্কার করেছে তরুণদের এই দল।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও বার্গার খাচ্ছিলেন দাহিয়া। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন।
বিতর্কের জেরে দাহিয়াকে মুখপাত্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সিজেপি। দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনের সময় তার আচরণ ছিল অত্যন্ত অসংবেদনশীল, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অগ্রহণযোগ্য। এমন আচরণ তার বিচক্ষণতার অভাব প্রকাশ করেছে এবং তা দলের আন্দোলনের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দাহিয়া। তার দাবি, বিষয়টি পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং এর পেছনে বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের ভূমিকা রয়েছে। আন্দোলনের জন্য তার ত্যাগ সম্পর্কে সবাই অবগত।
‘ক্ষুধা লাগলে খাবার খাওয়াকে ভুল হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। মানুষের ক্ষুধা লাগলে সে খাবে, এতে অন্যায় কিছু নেই। আমি ক্ষুধাকে মহিমান্বিত করতে চাই না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্যের অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারে আমি বিশ্বাস করি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর যদি আমি একটি বার্গার খাই, সেটিকে কেন্দ্র করে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অদ্ভুত ব্যাপার’, বার্গার খাওয়ার ভিডিওর ব্যাখ্যা দিলেন দাহিয়া।
তার দাবি, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যন্তর মন্তরের দিকে ফিরছিলেন বিক্ষোভকারীরা, তখন তিনিও রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। সন্ধ্যায় আবার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। এ ছাড়া আন্দোলনের পুরো সময় টানা ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অতিথি ও প্রতিনিধি দল সামলানোসহ পালন করেছেন বিভিন্ন দায়িত্ব। টানা দুই রাত না ঘুমিয়েও করে গেছেন কাজ। তাই আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, বরং এটি একটি অপপ্রচার।
বৃহত্তর স্বার্থে দলের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন দাহিয়া। তার ভাষ্য, দায়িত্ব হারানো নিয়ে আপত্তি নেই। যদি এই আত্মত্যাগে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে তাতে তার কোনো সমস্যা নেই। ব্যক্তি দাহিয়ার চেয়ে আন্দোলনের বৃহত্তর লক্ষ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।