ভারতের দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভে ফুসে উঠেছে সচেতন মহল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বলিউডের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা, গায়ক ও নির্মাতা। দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সোনাক্ষী সিনহা, অদিতি রাও হায়দারি, পূজা ভাট ও শাবানা আজমির মতো তারকারা সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া এবং সহিংসতা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, ‘আজকে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আপনারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শুনুন।’

অতীতে বিতর্কিত নানা মন্তব্যের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আগেও আমাকে 'দেশবিরোধী' বলা হয়েছে, হয়তো এখনো বলা হবে। বাকিটা ঈশ্বর দেখছেন।’
অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা পুলিশি নির্যাতনের একাধিক ভিডিও শেয়ার করে মূলধারার সংবাদ মাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেখার পরও যদি আপনার প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে না করে—তবে ধরে নিতে হবে আপনিও মৃত। ঠিক আমাদের এই তথাকথিত গণতন্ত্রের মতো।’

একইভাবে অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে লেখেন, ‘কথোপকথন ও পারস্পরিক মর্যাদাবোধই যে কোনো সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায়।’

শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সরব হয়েছেন নির্মাতা পূজা ভাট। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের প্রতি তার কড়া বার্তা, ‘আন্দোলনকারীদের ওপর অন্ধভাবে হামলা চালানোর আদেশ পালনকারী প্রতিটি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার মনে রাখা উচিত—ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়, কিন্তু সংবিধান চিরস্থায়ী। ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব একদিন দিতেই হবে।’
অনলাইন প্রতিবাদের বাইরে গিয়ে রাজপথে নেমেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। নিজে সরাসরি আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। সেখানে এক কবিতার চরণ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘সত্য কথা বলার মাশুল যদি ফাঁসির মঞ্চও হয়, তবু সত্যের জয় অনিবার্য। অন্যায় ও দমন-পীড়ন দিয়ে সত্যকে কখনোই স্তব্ধ করা যায় না।’

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ সিজিপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। এর আগে গত সোমবার দিল্লির রাস্তায় আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জ চালালে অন্তত ১৮০ জন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী আহত হন।