যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন কিছুটা স্তিমিত হলেও, যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে প্রচারণার যুদ্ধ। এবার অস্ত্র নয়, তেহরানের বিশাল দেয়ালচিত্রকেই প্রতিশোধের ভাষা বানিয়েছে ইরান। রাজধানীর দুটি বিশাল দেয়াল জুড়ে এমন বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উদ্দেশে প্রকাশ্য হুমকির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার উন্মোচিত এক বিশাল দেয়ালচিত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রক্তলাল ‘প্রতিশোধের সাগরে’ ডুবে যেতে দেখা যায়। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিত্রটিতে ফারসি ও ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের সাগরে তোমরা ডুবে যাবে।’
এর কয়েক দিন আগে তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কয়ারে আরেকটি বিশাল বিলবোর্ডে খোলা কালো কফিনের ভেতরে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয় ট্রাম্পকে। পাশে বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব।’ একই বিলবোর্ডে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে মিনাবে হামলায় নিহত শিশুদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের সাগরে তোমরা ডুবে যাবে’ লেখা বিলবোর্ডে দেখা যায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকেবিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব যে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এসব দেয়ালচিত্র তারই প্রতিফলন। কয়েক মাস ধরে তেহরান, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে এগুলো।
ট্রাম্পকে কফিনে শায়িত এবং ট্রাম্প-বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘোষিত ‘প্রতিশোধের’ শিকার হিসেবে তুলে ধরা এসব দেয়ালচিত্র স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই সংঘাত এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা কূটনীতির টেবিলে সীমাবদ্ধ নয়। দেয়ালও এখন রণাঙ্গন, আর রঙ-তুলিই হয়ে উঠেছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নতুন অস্ত্র।