জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছেন সংস্থাটিতে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনকারী, ভুক্তভোগী নয়।’
ইরানের সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ চিঠিটির কথা জানিয়েছে। বলা হয়েছে, চিঠিতে ইরাভানি লিখেছেন, ‘সমঝোতায় (যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক) সই করার পরপর যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে সক্রিয় ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে এর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ৪২টি ঘটনার সুস্পস্ট ও মৌলিক তথ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করেছে ইরান—জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন ইরাভানি।
‘সমঝোতা স্মারকের এ ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও ক্রমাগত লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সেই সঙ্গে এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে অবজ্ঞা দেখিয়েছে’, লিখেছেন ইরানের প্রতিনিধি।
ইরানি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, ‘ইরানের বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা (যুক্তরাষ্ট্রের) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।
যুদ্ধ বন্ধে দুপক্ষের সমঝোতা স্মারক সই হলেও ইরানে ৭ জুলাই নতুন করেছে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলা আরও চলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর কথা ১০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ৬০ দিন ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।
সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের। এখন হামলা আর পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের সঙ্গে এখনো একটি ‘চুক্তি হওয়া সম্ভব’ বলে জানিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শীর্ষনিউজ