Image description

বর্তমান সময়ে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্বল ওয়াই-ফাই সিগন্যাল ও সীমিত কভারেজের কারণে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে বাফারিং, অনলাইন গেমে ল্যাটেন্সি কিংবা ব্রাউজিংয়ের ধীরগতির মতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেক ব্যবহারকারীকে।

অনেকেই এসব সমস্যার জন্য সরাসরি ইন্টারনেট সংযোগের ধীরগতিকে দায়ী করেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাউটার ব্যবহারের কিছু সাধারণ ভুল, ভুল অবস্থানে রাউটার রাখা কিংবা সঠিক সেটিংস ব্যবহার না করাই ওয়াই-ফাইয়ের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

রাউটারের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললে এবং ব্যবহারের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ওয়াই-ফাইয়ের গতি ও কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। ঘরের প্রতিটি কোণায় ভালো সিগন্যাল পেতে জেনে নিন এমন ৭টি কার্যকর উপায়।

১. রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন

রাউটার সব সময় বাড়ির মাঝামাঝি কোনও জায়গায় এবং মেঝে থেকে অন্তত ৪-৬ ফুট উঁচু স্থানে রাখুন। আলমারি, ড্রয়ার, টেলিভিশনের পেছনে কিংবা কোনোকিছুর আড়ালে রাখলে ওয়াইফাই সিগন্যাল বাধা পায়। উন্মুক্ত ও উঁচু জায়গায় রাউটার রাখলে ওয়াইফাই কভারেজ বাড়ে এবং সিগন্যাল সমানভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। রাউটারের এন্টেনা থাকলে সেগুলো যথাযথ ভাবে ছড়িয়ে রাখতে হবে, যা সিগন্যাল আদান-প্রদানের মাধ্যমে সব ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

 

২. রেডিও ইন্টারফেরেন্স কমান

মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ল্যান্ডলাইন ফোন, সকল ব্লুটুথ চালিত ওয়‍্যারলেস ডিভাইস ও টেলিভিশনের মতো ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে। ফলে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইন্টারফেরেন্স তৈরি হয়ে ওয়াইফাই সংযোগ অস্থিতিশীল হতে পারে। তাই এসব যন্ত্র থেকে রাউটার দূরে রাখুন। পাশাপাশি রাউটারের সেটিংস থেকে কম ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই চ্যানেল নির্বাচন করলে সিগন্যালের মান উন্নত হয়।

৩. প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্যান্ড ব্যবহার করুন

ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটারে ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড দূর পর্যন্ত সিগন্যাল পৌঁছাতে সক্ষম হলেও গতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে ডেটা স্থানান্তরের গতি বেশি, তবে কভারেজ কম। তাই রাউটার থেকে দুরের কক্ষে ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ এবং কাছাকাছি অবস্থানে ৫ গিগাহার্টজ ব্যবহার করলে নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ ও উচ্চ গতি পাওয়া যায়।

৪. রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন

ফার্মওয়‍্যার হলো রাউটারের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার, যা রাউটারটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন, নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা উন্নয়ন এবং

বাগ দূর করা হয়। তাই রাউটারের ওয়েব পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপ থেকে নিয়মিত নতুন ফার্মওয়‍্যার আপডেট করুন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কিউ.ও.এস. চালু করুন

একই নেটওয়ার্কে একাধিক ডিভাইস যুক্ত থাকলে ডিভাইসের সংখ্যাভেদে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। রাউটারের কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউ.ও.এস.) বা ট্রাফিক অগ্রাধিকার অপশন চালু করে ভিডিও কনফারেন্স, লাইভ স্ট্রিমিং বা গেমিংয়ের মতো উচ্চ গতির ইন্টারনেট চাহিদাসম্পন্ন কাজগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ডিভাইস ও অ্যাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। এতে ল্যাগ, বাফারিং ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কমে যায়।

৬. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন রাখুন

অনেক পুরোনো বা অব্যবহৃত স্মার্টফোন, টেলিভিশন কিংবা আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ডিভাইস অযথাই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে। নিয়মিত সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সক্রিয় ডিভাইসগুলো আরও স্থিতিশীল ও দ্রুত ইন্টারনেট পায়।

৭. বড় জায়গায় মেশ ওয়াই-ফাই বা রেঞ্জ এক্সটেন্ডার ব্যবহার করুন

বহুতল ভবন বা বড় আবাসনে একটিমাত্র রাউটার দিয়ে পুরো জায়গা জুড়ে ওয়াইফাই সংযোগ সরবরাহ করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে মেশ ওয়াই-ফাই সিস্টেম, অতিরিক্ত অ্যাকসেস পয়েন্ট বা রেঞ্জ এক্সটেন্ডার ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর। একাধিক ইউনিট, একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করায় ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গেলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না এবং সিগন্যালের মান বজায় থাকে।