বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মুসলিম শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী। যাদবপুরের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক শিউলি সাহা এবং সম্প্রতি শিবির পরিবর্তন করা সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়রা।
শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মঙ্গলবার সকালে বারুইপুরে পৌঁছেছিল বিদ্রোহী তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু এলাকায় প্রবেশের পর থেকেই তাদের ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ ইত্যাদি স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিধায়ক শিউলি সাহা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলছিলেন, ‘আমরা তো আলাদা। তোমরা এ ভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের শাস্তি চাই।’
প্রথমে পুলিশ প্রতিনিধি দলটিকে এগোতে বাধা দেয় বলে জানা যায়। পরে অনুমতি মিললে তারা শিশুটির বাড়িতে যান। তবে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় সায়নী ঘোষকে। তাকে দেখেই স্থানীয়রা ‘গাদ্দার’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার তিনদিন পর এলাকায় এসে সমবেদনা জানানো রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হয়ে এতদিন কোথায় ছিলেন? ঘটনার পরপরই কেন আসেননি? তার আরও অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের সময় অন্যদের গাদ্দার বলা হয়েছিল। এখন মানুষ জানতে চাইছে, নিজের অবস্থান বদলানোর ব্যাখ্যা কী?
এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাতও দ্রুত সামনে আসে। বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা জনরোষের মুখে পড়তেই কটাক্ষ শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতারা। তাদের বক্তব্য, দলের কঠিন সময়ে যারা নেতৃত্বের পাশ ছেড়ে গিয়েছেন, সাধারণ মানুষ তাদের আচরণ ভাল চোখে দেখছেন না।
কালীঘাট শিবিরের নেতাদের বক্তব্য, আজ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। যারা দলের দুঃসময়ে দল ছেড়ে চলে গিয়েছে, মানুষ তাদের ভূমিকা মনে রেখেছে। তাদের আরও দাবি, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর পর যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করেননি।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। রবিবার শিশুটির বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তার কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে রেখে তাকে কার্যত বাইরে যেতে দেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করে তিনি নিজেকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার অভিযোগও তোলেন।
যদিও মমতা নিজে যেতে না পারলেও সোমবার কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল হিসেবে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল এবং স্থানীয় বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার বারুইপুরে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।