Image description

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের ইসরায়েল-বিরোধী বক্তব্যকে তেল আবিব ‘খুবই গুরুত্বের’ সঙ্গে দেখছে এবং বিষয়টি ওয়াশিংটনের নজরে আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রবিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু এই হুঁশিয়ারি দেন বলে হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিষয়টি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর কাছে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

 

মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, এমন কোনও দিন যায় না, যেদিন এরদোয়ান ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংসের আহ্বান জানান না। আমরা তার এই বক্তব্যগুলোকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। কারণ আমাদের জাতির ইতিহাস থেকে আমরা যদি একটি জিনিস শিখেছি, তা হলো, কেউ যখন আপনাকে ধ্বংস করার ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তখন আপনার সেটি গুরুত্বের সঙ্গেই নেওয়া উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের আমেরিকান বন্ধুদেরও এই বক্তব্যের বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করব। আমরা এগুলোকে একেবারেই উপেক্ষা করছি না।

সম্প্রতি এরদোয়ান এবং তুরস্কের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সমালোচনা তীব্র করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটিকে জেরুজালেম ‘মুক্ত’ করার আহ্বান জানান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম থেকেই ইসরায়েলের সবচেয়ে কঠোর সমালোচকদের একজন এরদোয়ান। তিনি জেরুজালেমের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনেছেন, ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সুপারিশ করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

কিছু পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রমজান মাসের শেষে এক দোয়া মাহফিলে এরদোয়ান ইসরায়েল ধ্বংসের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তার নামের খাতিরে... জায়নবাদী ইসরায়েলকে ধ্বংস ও বিধ্বস্ত করেন।

 

এদিকে প্রায়শই এরদোয়ানের প্রশংসা করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে তেহরানের সমর্থনে এরদোয়ান অংশ নিতে পারতেন; কারণ তিনি ইসরায়েলকে পছন্দ করেন না। যদিও তুরস্ক এই যুদ্ধে জড়ানোর কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

 

একই দিনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আগামী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিনি দেশটিতে এফ-৩৫স্টিলথ ফাইটার এবং ডজনখানেক জেট ইঞ্জিনসহ অস্ত্র বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই জেরুজালেমের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে।