ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের ‘বিদ্রোহ’ বেশিক্ষণ টিকল না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে দুজন সিনেটর অবস্থান বদলালে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করে আগে পাস হওয়া প্রস্তাবটি নাকচ হয়। বুধবার (২৪ জুন) রাতে নতুন প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়।
এর আগে মঙ্গলবার একই ধরনের একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছিল। সেদিন চার রিপাবলিকান সিনেটর দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। ট্রাম্প ওই ভোটকে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দেন। এ ছাড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সিনেটরদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার নতুন প্রস্তাবে ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে জানিয়েছেন উপস্থিত কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
ক্যাসিডি পরে বলেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে তাঁর কিছু প্রশ্ন ছিল। তবে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং পাওয়ার পর তাঁর উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়। এরপরই সন্ধ্যার ভোটে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন তিনি। আর কেন্টাকির সিনেটর র্যান্ড পল ‘প্রেজেন্ট’ ভোট দিয়ে কার্যত ভোটদানে বিরত থাকেন। তাঁদের অবস্থান পরিবর্তনেই প্রস্তাবটি আটকে যায়।
মেইনের সুজান কলিন্স ও আলাস্কার লিসা মুরকাউস্কি অবশ্য আগের মতোই ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান আবারও এর বিরোধিতা করেন। ভোটের ফলকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে।
এদিকে সিনেটে এই ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৭০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের বাইরে।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো পাশে দাঁড়ায়নি। যদিও তাদের সহায়তার প্রয়োজন ছিল না, তবু সমর্থন জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।