মঙ্গলবার ইসলামাবাদ সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শরিফ এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে দাবি করেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুটি কখনোই আলোচনার টেবিলে বা এজেন্ডায় ছিল না এবং ইরান পক্ষও এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চায়নি।
তিনি এটিকে কেবল কোনো ধারণা নয়, বরং একটি ‘বাস্তব ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু দেশের দ্বিমুখী আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে এমন বৈষম্যমূলক অবস্থান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। একই সাথে, কিছু ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ পক্ষ এই শান্তি চুক্তিটি বানচাল করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর, গত ৮ই এপ্রিল পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হয়। এরপর এটিই ইরানি প্রেসিডেন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। শাহবাজ শরিফ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অঞ্চলে মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ তার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাবে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন দেওয়ায় তিনি তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব এবং মিশরের শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
সদ্য সমাপ্ত যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ এবং ইরানি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী সপ্তাহে তিনি নিজে তেহরান সফর করবেন এবং পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল খামেনেইয়ের জানাজায় অংশ নেবে। কঠিন সময়ে দুই দেশ সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে আগামীতে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।
ডিবিসি