ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি হুমকির সুরে বলেছেন, সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন ব্যবস্থায় ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের পানি-সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে ইসলামাবাদ নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
রবিবার পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এসব কথা বলেছেন। ভারতের সঙ্গে স্থগিত সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে চলমান বিবাদের মধ্যে এটি নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, পানিকে একটি মৌলিক জাতীয় নিরাপত্তা বিষয় হিসেবে দেখে ইসলামাবাদ। সিন্ধু অববাহিকার পানিতে নিজেদের অধিকার নিয়ে কোনো গুরুতর হুমকি অনুভূত হলে পাকিস্তান জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান সাধারণত সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি তাদের কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করার আইনি অধিকার পেয়ে থাকে।
কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে নয়াদিল্লি ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিচুক্তিটি দৃঢ়ভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।
ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইসলামাবাদ যতক্ষণ না তাদের সব সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে খাজা আসিফ রবিবারের সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই একটি অংশ বিপন্ন হচ্ছে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব। অবশ্যই যুদ্ধে যাব।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যদি এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় ভারত পানিবণ্টন চুক্তির অধীনে পানির প্রবাহ সীমিত বা পরিবর্তন করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং পানির তীব্র সংকটের সম্মুখীন হলে অবশ্যই আমরা সামরিক ব্যবস্থা নিব।’
এর আগে, সম্প্রতি ভারতের পানিশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল ভিডিও বার্তায় ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এরপরেই ইসলামাবাদের দিক থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যটি এলো।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে