Image description

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইল নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন (সি চেঞ্জ) আসতে পারে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকর্মীরা। স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টির উত্থান, ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায় এবং ইসরাইলে সব ধরনের অস্ত্র পাঠানো বন্ধে লেবার পার্টির সদস্যদের ভেতর তৈরি হওয়া জনমতের কারণে সরকার ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির ৮৭ শতাংশ সদস্য অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের পক্ষে এবং ৭৮ শতাংশ সদস্য ইসরাইলে সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চান।

এ ছাড়া, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান এমিলি থর্নবেরি এক মন্তব্যে বলেছেন, লেবার পার্টি ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা দুই শীর্ষ নেতা হলেন ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। মেকারফিল্ডের এমপি জশ সিমন্সের পদত্যাগের পর সেখানে একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা অ্যান্ডি বার্নহামের পার্লামেন্টে ফেরার এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ তৈরি করতে পারে।

অ্যান্ডি বার্নহাম তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের প্রতিই সহনশীল নীতি বজায় রেখেছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি সাদিক খান ও আনাস সারওয়ারের সঙ্গে মিলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে তিনি গাজার পরিস্থিতিকে ‘ভাষাতীত’ বর্ণনা করে সেখানকার চিকিৎসা সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানান।

তবে বার্নহাম আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসরাইলের লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের অধিকারকে সমর্থন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’ গ্রুপের সদস্য বা সমর্থক হিসেবে যুক্ত আছেন।

ফিলিস্তিনপন্থি রাজনীতিক জারা সুলতানা বার্নহামকে ‘জায়নিস্ট’ বা ইহুদিবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার সমালোচনা করেছেন। কারণ বার্নহাম বয়কট আন্দোলনকে (বিডিএস) ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ এবং বেলফোর ঘোষণাকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের প্রতিফলন’ বলেছিলেন।

অন্যদিকে, ২০১২ ও ২০১১ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রিটিশ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিলেন বার্নহাম। ২০১২ সালে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরও সফর করেন।

এখন পর্যন্ত লেবার পার্টি সরকারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলে আংশিক অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করা এবং তার এক বছর পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের পর নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির নীতিতে আরো বড় পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউ আরব