ইসরায়েলের ‘অব্যাহত’ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো।
সূত্রগুলো জানায়, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তবে ‘ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের’ নির্দেশে শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন তারা।
তবে ওই নির্দেশ সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে এসেছে কি না, তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি। এর আগে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে ‘ভিন্ন মত’ থাকার কথা জানিয়েছিলেন মোজতবা।
আলোচনার নতুন তারিখ বা স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, ‘চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে নতুন তারিখ নির্ধারণের জন্য পাকিস্তান উভয়পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ সই করার পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তৈরি হয়েছিল সরাসরি আলোচনার পথ।
সূত্রটি জানায়, তেহরানের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই আলোচনা আয়োজনের প্রক্রিয়া কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।’
তিনি আরও বললেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করার অপেক্ষায় আছি আমরা।’
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসান চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শুক্রবারের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে না।
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা একটি চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরি করবেন। এতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ট্রাম্প ইতোমধ্যে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছেন, সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়েছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই চুক্তিতে সই করেছেন শরিফও।
চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে ১৩ এপ্রিল মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে, ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।