আমেরিকার সাথে শান্তি চুক্তি ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন পরেই ২০টি রুশ হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি সই করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার জানিয়েছে, দেশের বিমান বহর পুনর্গঠন এবং 'লজিস্টিকস ও আকাশপথে উদ্ধারকারী বহরের' শক্তি বাড়াতে ইতিমধ্যে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি করা শুরু করেছে তেহরান। এই লক্ষ্যেই ইরানি কর্মকর্তারা মস্কো সফর করেন। খবর ফোর্বস নিউজ ও তাস নিউজ।
ইরানের বার্তা সংস্থা 'ওয়ানা' জানিয়েছে, বুধবার মস্কোতে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং 'রাশিয়ান হেলিকপ্টারস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এই চুক্তি সই করেন। চুক্তির আওতায় প্রথম চারটি হেলিকপ্টার ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
এই হেলিকপ্টারগুলো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বহরের জন্য কেনা হচ্ছে বলে জানানো হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করে আসছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া প্রাথমিক হামলার মাধ্যমেই তিনি ইরানের বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি।
শান্তি চুক্তির মূল খসড়াটি এখনো প্রকাশ না পেলেও, ফ্রান্সে চলমান জি-৭ (G7) সম্মেলনে মার্কিন কর্মকর্তারা অন্যান্য দেশের নেতাদের কাছে এটি সরবরাহ করছেন বলে বুধবার রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ রিপোর্ট করেছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি তহবিল গঠন করার কথা রয়েছে। অবশ্য ট্রাম্প এই প্রকল্পে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। এই চুক্তিটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য দুই পক্ষকে আরও ৬০ দিনের সময় দেবে। ট্রাম্প অবশ্য বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে।
এর আগে জি-৭ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি সমঝোতা স্মারক মাত্র। এটি যদি আমার পছন্দ না হয়, তবে আমরা আবারও তাদের ওপর গুলি চালানো এবং মাথার ওপর বোমা ফেলা শুরু করব।’ তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সরাসরি তাদের মাথার ঠিক মাঝখানে বোমা ফেলা শুরু করব, কারণ তারা গত ৪৭ বছর ধরে খারাপ আচরণ করে আসছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে আসছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, গত মঙ্গলবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতিও একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে 'আর্থিক লেনদেন সহজতর করার' উদ্দেশ্যে রাশিয়া সফর করেছেন। উল্লেখ্য, এই দুটি দেশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি রয়েছে।