পরকীয়া প্রেমের কারণে অভিনব উপায়ে স্বামীকে হত্যা করেছেন এক স্ত্রী ও তার প্রেমিক। এ ঘটনায় কর্ণাটকে তোলপাড় চলছে। কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় সাবেক এক সেনা সদস্যকে হাসপাতালে হত্যা করে হৃদরোগে মৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২ কোটি রুপির বীমার অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর পুলিশ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন নিহতের স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
নিহত সেনা সদস্যের নাম সন্দীপ মানজারগি। ১৩ই মার্চ একটি সাধারণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন এবং প্রথমে হুক্কেরি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে গাত্রাপ্রভায় জে জি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তার স্ত্রী সুমা মানজারগির মাধ্যমে। ১৫ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ উল্লেখ করা হয়। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিআইএমএস হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক ফরেনসিক রিপোর্টে বিষের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং মৃত্যু স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, সন্দীপের কোনো গুরুতর আঘাত না থাকায় এবং তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তদন্তে মোড় নেয় এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে। অভিযুক্তদের একজন পুন্ডলিক ডোম্বার ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন একজন সামান্য দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তি কীভাবে হঠাৎ মারা যেতে পারেন। এই পোস্ট তদন্তকারীদের নজরে আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সেখান থেকেই পুরো ষড়যন্ত্রের তথ্য বেরিয়ে আসে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের দাবি, পুন্ডলিক ডোম্বার ও সন্দীপ একসময় ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ছিলেন। একটি হোটেল প্রকল্পে অংশীদার ছিলেন তারা। সেই সময়েই সুমা ও পুন্ডলিকের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তে জানা যায়, সন্দীপের নামে বিভিন্ন বীমা কোম্পানিতে প্রায় ২ কোটি রুপির বীমা পলিসি নেয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই অর্থ হাতানোর জন্যই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জে জি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর সহায়তায় তাকে বিষ ও ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মৃত্যুকে স্বাভাবিক দেখাতে মেডিকেল ও ফরেনসিক নথি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। হাসপাতাল কর্মী, ল্যাব কর্মী এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তাও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, ফরেনসিক রিপোর্ট প্রভাবিত করতে এবং বিষের উপস্থিতি গোপন রাখতে অন্তত ৩ লাখ রুপি ঘুষ দেয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন বিষের বোতল, সিরিঞ্জ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক প্রমাণ জব্দ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুমা মানজারগি, পুন্ডলিক ডোম্বার, আরএমপি ডাক্তার বাসবরাজ ভাসমে, এফডিএ কর্মকর্তা অশোক গুজানাল, এফএসএল ক্লার্ক আপ্পাসাহেব নাইক, ল্যাব সহকারী চান্নাইয়া আদিভিশ্বামিমাথ, সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পিএন নাগরাজ এবং ডোম্বারের সহযোগী সচিন সেলার ও রাহুল যোগী।
এই ঘটনার আগেই তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় একই ধরনের একটি হত্যাকাণ্ড সামনে আসে। সেখানে একজন ব্যক্তির মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে এবং স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা যায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তদন্তকারীদের মতে, দুই ঘটনাতেই মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বামীকে হত্যা করে বীমার টাকা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবিধা নেয়া।