Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক শীর্ষ নেতারা। এ সমঝোতাকে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত শান্তি চুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার ভাষ্য, এ চুক্তির ফলে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এদিকে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও। ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল।’ সব পক্ষকে দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, হরমুজ প্রণালি কোনো শর্ত ছাড়াই পুনরায় খুলে দিতে হবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রযুক্তিগত আলোচনায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তার দেশ। হরমুজ প্রণালিতে শুল্কমুক্ত ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিতে জোর দেন তিনি এবং বলেন, চুক্তির বিস্তারিত শর্তগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করা জরুরি।

এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি। পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান তিনি এবং বলেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে কাতার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ উদ্যোগ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে এবং এর ফলে জ্বালানি দামেরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। তার দাবি, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না ইরান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ চুক্তি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।’

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা’ বলে উল্লেখ করেছে তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এখনো রয়ে গেছে কিছু সংশয়। পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে একমত হয়নি দুই পক্ষ, এমনকি বাস্তবায়ন নিয়েও রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা। তাই এই ঘোষণা বাস্তব শান্তির দিকে অগ্রগতি নাকি কেবল রাজনৈতিক কৌশল, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের বাস্তবায়নের ওপর।