Image description

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদল ঘটল, যা নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে দলের কিছু শীর্ষ নেতার গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে জল্পনা যখন বাড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের যুব সংগঠনে বড় সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলের রাজ্য যুব সভাপতি পদ থেকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিনেত্রী ও সাংসদ সায়নী ঘোষকে। তার জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের অভ্যন্তরেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় স্তরের চাপের কারণেই এই পরিবর্তন ঘটেছে।

একই সঙ্গে উত্তর কলকাতার সংগঠনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে, যাকে দলের ঘনিষ্ঠ মহলে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে দেখা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের দুই সাংসদ- সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায়কে দেখা যাওয়ার পর। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিকে একই দিনে প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভূঁইয়া দলীয় নেতৃত্বকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের আদর্শ ও সম্মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই তিনি দলীয় সদস্যপদ ছাড়ছেন।

এই সব ঘটনার পর তৃণমূলের ভেতরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে নতুন নেতৃত্ব, অন্যদিকে পুরনো মুখদের অপসারণ-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগতভাবে না দেখে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে দেখা উচিত। বিজেপির নেতা রমেন রায় বলেন, তৃণমূলের ভিতরে অস্থিরতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়ছে, যার ফলেই বারবার বড় পদে পরিবর্তন করতে হচ্ছে।